কিছু কিছু মুভি আসলে অন্তরে গেথে থাকে। সেই মুভি গুলো বার বার দেখলেও বিরক্ত লাগে না বরং আরো দেখতে ইচ্ছে করে। উফ্ কি দেখলাম আমি! এত চমৎকার একটা মুভি কিভাবে হতে পারে! কি দারুণ ভালোবাসার গল্প। এ ভালোবাসা যেন সব কিছুকেই ছাপিয়ে যায়। আমি তো ড্রামা রোমান্টিক জনরার মুভি অনেক পছন্দ করি, তাই হয়তো আমার কাছে এত ভালো লেগেছে। আর মুভিটা দেখার এবং ভালোলাগার অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে দুলকার সালমান। ""ওহ রাম মেরা রাম"। প্রিয় এই অভিনেতা আবারো মুগ্ধ করে দিয়ে গেলেন তার অভিনয়,তার হাসি, তার এক্সপ্রেশন দিয়ে।
ষাট বছর আগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত রোম্যান্টিক ড্রামা জনরার এই মুভটি আপনাকে নিয়ে যাবে এক আলাদা জগতে। সেই সময়ের দুটো মানুষের প্রেমের গল্প, ইন্ডিয়া পাকিস্তানের বিরোধ, ২০ বছর ধরে প্রিয় মানুষের জন্য অপেক্ষা, হঠাৎ করে জীবনে প্রেম আসা, তাকে বার বার হারিয়ে ফেলা আবার খুজে পাওয়া সব মিলিয়ে অসাধারণ এক নির্মাণ। পরিচালক Hanu Raghavpudi অসাধারণ নির্মাণ বললেও কম হয়ে যাবে।মুভির সিনেমাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, লোকেশন, কস্টিউম আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
আচ্ছা কখনো চিঠি পেয়েছেন? অথবা চিঠিতে পরিচয় হয়ে প্রেম করেছেন! কখনো দেখেন নি চেনেন না অথচ একটা চিঠিতেই প্রেম। হ্যা চিঠি আসতেই থাকে আর তাতে লিখা থাকে এক রাশ ভালোবাসার কথা। কে তখন তার সাথে দেখা করার জন্য ব্যাকুল হবে না বলেন! কিন্তু এত কি সহজ যদি চিঠিতে ঠিকানাই লিখা না থাকে তাহলে দেখা হবে কি করে! আচ্ছা আমি ধীরে ধীরে বলছি। মুভিতে আরো অভিনয় করেছেন আমাদের সবার প্রিয় যীশু সেনগুপ্ত। প্রিয় এই অভিনেতা কে তেলেগু মুভিতে দেখে খুব ভালো লাগলো। আরো ছিলেন Mrunal Thakur, Rashmika Mandanna, Bhumika Chawla সহ আরো অনেকেই।
তবে Mrunal Thakur কে কি যে মিষ্টি লেগেছে আর কি চমৎকার তার অভিনয়! আপনিও প্রেমে পড়ে যাবেন। তিনি আমার পছন্দের অভিনেত্রী। এর আগেও বেশ কিছু মুভি দেখেছি প্রিয় এই অভিনেত্রী অভিনীত। তবে হ্যা শেষ টা আপনাকে ইমোশনাল করে দিবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তাহলে এবার আমি মুভির প্লল্ট নিয়ে লিখি অল্প করে।
Sita Ramam (2022)
Industry : Telugu
Genre: Romance / Drama
IMDB: 8.1/10
Personal: 10/10
হালকা_স্পয়লার
সাল ১৯৮৪, স্থান লন্ডন। সেখানে আফরিন নামের এক পাকিস্তানী তরুনী ভারতীয় এক কর্মকর্তার গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।কারণ পাকিস্তান নিয়ে সেখানে টিভিতে খারাপ কিছু শুনেছিলো আফরিন। সে ইন্ডিয়া কে শ*ত্রু মনে করতো। কেনো তা আপনারা মুভি দেখলেই বুঝতে পারবেন। তো আফরিন কে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় আর তাকে বলা হয় ক্ষতিপূরণ দিতে। আর সে তা না পারলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে। এদিকে আফরিন এর কাছে নেই তেমন টাকা যা দিয়ে সে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। এভার আফরিন তার নিজের দেশে আসে তার দাদার কাছে টাকা চাইতে৷ সে অনেক বছর পরে দেশে ফিরছে।
সে দেশে আসার পর জানতে পারে তার দাদা মা*রা গেছেন।তো সেখানে একজন ছিলেন যার কাছে আফরিন টাকা চায়, বলে তার দাদা কিছু তো তার জন্য রেখে গেছে আর তা তাকে দিয়ে দেওয়া হোক৷ কিন্তু লোকটা জানায় তার দাদার শেষ ইচ্ছা একটা চিঠি সীতা নামের এক জনের কাছে পৌছে দিতে হবে৷ তার পরেই সে তার টাকা পাবে৷ চিঠিটা ২০ বছর আগে লিখা আর লিখেছিলেন লেফট্যান্যান্ট রাম। হ্যা সে তার ভালোবাসার মানুষ সীতা মহালক্ষীর কাছেই লিখেছিলেন চিঠিটা।কিন্তু চেনা নেই জানা নেই একটা চিঠি পৌছানো কি এত সহজ হবে আফরিনের পক্ষে!
কিন্তু কিচ্ছু করার নেই চিঠি তাকে পৌছাতেই হবে।আর সে বের হয়ে পরে হায়দ্রাবাদের উদ্দেশ্যে। সীতার কাছে পৌছাতে হবে তাকে। আর সীতার কাছে পৌছানোর এই জার্নি তেই পুরো ঘটনা উঠে এসেছে৷ তাহলে আর দেরী না করে ঝটপট এই মাস্টারপিস মুভিটা দেখে ফেলুন। আমি আমার রিভিউ এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে
কোন মন্তব্য নেই